ব্রাজিল ও আইভরি কোস্টের মতো শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশগুলোতে উৎপাদন বাড়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে পণ্যগুলোর দাম নিম্নমুখী রয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) অপরিশোধিত চিনির দাম টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে। প্রতি পাউন্ড চিনির দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১৪ ডলার ৮০ সেন্টে নেমেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, শীর্ষ চিনি উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিলে এখন ইথানলের চেয়ে চিনি উৎপাদন বেশি লাভজনক হওয়ায় মিল মালিকরা চিনি উৎপাদন বাড়াচ্ছেন। ফরাসি চিনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তেরেওস জানিয়েছে, প্রত্যাশার চেয়ে আখ চাষ ভালো হওয়ায় ব্রাজিলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চিনি উৎপাদন হতে পারে। একই সঙ্গে সাদা চিনির দামও ১ শতাংশ কমে প্রতি টন ৪৩৮ ডলার ৫০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
চিনির পাশাপাশি বিশ্ববাজারে কোকোর দামও কমেছে। লন্ডনের বাজারে কোকোর দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি টন ৩ হাজার ৩৪ পাউন্ডে নেমেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কোকোর দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্বের শীর্ষ কোকো উৎপাদনকারী দেশ আইভরি কোস্টে এবার ২১-২২ লাখ টন কোকো উৎপাদন হতে পারে, যা পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক বেশি। তবে এল নিনোর প্রভাবে ভবিষ্যতে কোকোর দাম আবার বাড়তে পারে বলে মনে করছেন কিছু বিশ্লেষক।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অ্যারাবিকা কফির দাম কমে দেড় বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। প্রতি পাউন্ড কফির দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে ২ ডলার ৬৬৯ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। ব্রাজিলের মুদ্রা রিয়ালের বিনিময় হার কমে যাওয়ায় স্থানীয় রফতানিকারকরা দ্রুত নতুন ফসল বিক্রি করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এছাড়া ব্রাজিলে কফির বাম্পার ফলন হওয়ায় বাজারে দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম। অ্যারাবিকা কফির পাশাপাশি রোবাস্তা জাতের কফির দামও ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি টন ৩ হাজার ৩৬৫ ডলার হয়েছে।